বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আমাদের চারপাশের বাতাস দিন দিন কতটা খারাপ হচ্ছে, সেটা তো আমরা সবাই দেখতে পাচ্ছি, তাই না? ঢাকার মতো শহরে প্রতিদিন শ্বাস নিতেই কষ্ট হয়। এমন একটা সময় এসেছে যখন পরিষ্কার বাতাস যেন স্বপ্ন!

আমার নিজেরও মাঝে মাঝে মনে হয়, আমরা কি আসলেই সুস্থভাবে বেঁচে আছি? কিন্তু জানেন কি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এই সমস্যা সমাধানের জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে? পরিবেশবান্ধব অনুঘটক এবং অত্যাধুনিক বায়ু পরিশোধক প্রযুক্তির হাত ধরে আমরা হয়তো আবারও নির্মল বাতাসে শ্বাস নিতে পারব। সম্প্রতি এমন কিছু দারুণ উদ্ভাবন দেখছি, যা দেখে সত্যিই মনে আশা জাগছে। এই প্রযুক্তিগুলো শুধু আজকের দূষণ কমাতেই নয়, ভবিষ্যতের জন্য আমাদের পৃথিবীকে আরও বাসযোগ্য করে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভাবছেন কীভাবে?
চলুন, আমরা এই বিষয়ে আরও গভীরভাবে জেনে নিই।
আমাদের চারপাশের অদৃশ্য নায়কেরা: পরিবেশবান্ধব অনুঘটকের জাদু
অনুঘটক আসলে কী এবং কীভাবে কাজ করে?
এই যে আমরা প্রতিদিন এত ধোঁয়া, বিষাক্ত গ্যাস দেখি, এগুলো আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে কতটা ক্ষতি করছে! কিন্তু জানেন কি, কিছু “অদৃশ্য নায়ক” আছে যারা এই বিষাক্ত পদার্থগুলোকে কম ক্ষতিকারক রূপে বদলে দিতে পারে?
এগুলোই হলো পরিবেশবান্ধব অনুঘটক বা ক্যাটালিস্ট। সহজ কথায়, অনুঘটক হলো এমন পদার্থ যা কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি বাড়ায় বা পরিবর্তন করে, কিন্তু নিজে সেই বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না বা পরিবর্তিত হয় না। যেমন ধরুন, আপনার গাড়ির এক্সহস্ট পাইপ থেকে যে কালো ধোঁয়া বের হয়, তার ভেতরে কার্বন মনোক্সাইড (যা অত্যন্ত বিষাক্ত) এবং নাইট্রোজেন অক্সাইড থাকে। অনুঘটক কনভার্টার এই বিষাক্ত গ্যাসগুলোকে কার্বন ডাই অক্সাইড, জলীয় বাষ্প এবং নাইট্রোজেনের মতো কম ক্ষতিকর পদার্থে রূপান্তরিত করে। ভাবুন তো, যদি এই প্রযুক্তি না থাকতো, তাহলে বাতাসের অবস্থা আরও কত ভয়াবহ হতো!
আমি ব্যক্তিগতভাবে যখনই গাড়ির অনুঘটক কনভার্টারের কথা ভাবি, মনে হয় যেন এক জাদুকর চুপচাপ আমাদের পরিবেশকে রক্ষা করছে।
শিল্প ও দৈনন্দিন জীবনে এর ব্যবহার
শুধু গাড়ি নয়, শিল্প কারখানায়, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে এমনকি আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও এই অনুঘটকের ব্যবহার এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। যেমন, প্লাস্টিক তৈরিতে, সার উৎপাদনে এবং বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় দূষণ কমাতে অনুঘটক ব্যবহার করা হয়। অনেক সময় রান্নাঘরের চিমনির ফিল্টারেও এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা চর্বি এবং ধোঁয়ার কণাগুলিকে আটকে বায়ু দূষণ কমায়। আমি যখন প্রথম জেনেছিলাম যে আধুনিক কারখানায় চিমনি দিয়ে নির্গত দূষণ কমাতে উন্নতমানের ক্যাটালিস্ট ব্যবহার করা হচ্ছে, তখন সত্যিই অবাক হয়েছিলাম। মনে হয়েছিল, এই ছোট ছোট প্রযুক্তিগুলোই আসলে আমাদের বড় বড় পরিবেশ সমস্যা সমাধানের পথ দেখাচ্ছে। এই অনুঘটকগুলো আমাদের দেখতে না পেলেও, নিরবে কাজ করে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যতের জন্য, যেন আমাদের শিশুরা অন্তত একটু পরিষ্কার বাতাস নিতে পারে।
ঘরের ভেতরেও তাজা বাতাস! অত্যাধুনিক বায়ু পরিশোধকের গোপন রহস্য
কেন আমাদের বায়ু পরিশোধক প্রয়োজন?
বাইরের বাতাস তো খারাপ হচ্ছেই, কিন্তু আপনি কি জানেন যে ঘরের ভেতরের বাতাসও অনেক সময় বাইরের থেকে বেশি দূষিত হতে পারে? ধুলো, মাইট, পোষা প্রাণীর লোম, রান্নার ধোঁয়া, রাসায়নিক স্প্রে, এমনকি ঘরের নির্মাণ সামগ্রী থেকেও নানা ক্ষতিকারক কণা এবং গ্যাস নির্গত হয়। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, কিছুদিন আগে আমার বাসায় বাচ্চারা প্রায়ই অ্যালার্জিতে ভুগতো। ডাক্তারের পরামর্শে একটি ভালো মানের বায়ু পরিশোধক কেনার পর থেকে তাদের সর্দি-কাশি অনেকটাই কমে গেছে। তখন বুঝলাম, শুধু বাইরে নয়, ঘরের ভেতরের বাতাসের গুণমানও কতটা জরুরি। বিশেষ করে যারা শহর এলাকায় থাকেন, যেখানে বাইরের জানালা খোলা রাখলে ধুলো আর ধোঁয়া ঘরে ঢোকে, তাদের জন্য বায়ু পরিশোধক এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং একটি প্রয়োজনীয় জিনিস।
কীভাবে একটি বায়ু পরিশোধক কাজ করে?
আধুনিক বায়ু পরিশোধকগুলি বিভিন্ন প্রযুক্তির সমন্বয়ে কাজ করে। সাধারণত, এদের ভেতরে একাধিক ফিল্টার স্তর থাকে। প্রথমে একটি প্রি-ফিল্টার থাকে যা বড় ধূলিকণা, চুল বা পশুর লোম আটকে দেয়। এরপর আসে HEPA (High-Efficiency Particulate Air) ফিল্টার, যা ৯৯.৯৭% পর্যন্ত ০.৩ মাইক্রন আকারের কণা যেমন পরাগরেণু, ধুলো এবং ব্যাকটেরিয়া ধরে ফেলে। আমার মনে হয়, এই HEPA ফিল্টারটিই বায়ু পরিশোধকের আসল নায়ক। এরপর অনেক পরিশোধকে অ্যাক্টিভেটেড কার্বন ফিল্টার থাকে, যা গ্যাস, দুর্গন্ধ এবং ভোলাটাইল অর্গানিক কম্পাউন্ডস (VOCs) শোষণ করে। কিছু মডেলে আয়নাইজার বা ইউভি-সি লাইটও থাকে যা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সাহায্য করে। এই প্রযুক্তিগুলো একসাথে কাজ করে বাতাসকে সত্যিই সতেজ ও স্বাস্থ্যকর করে তোলে। আমার নিজের একটি পরিশোধক আছে যা যখন চালাই, তখন ঘরের বাতাস কতটা হালকা আর পরিষ্কার অনুভূত হয়, সেটা বলে বোঝানো কঠিন। এই অনুভূতিটা সত্যিই অসাধারণ!
আমরা যখন ঘুমাচ্ছি, এক বিশাল যুদ্ধ: শিল্প কারখানার দূষণ হ্রাস
দূষণ কমাতে শিল্প কারখানার ভূমিকা
আমরা যখন আরাম করে ঘুমাই, তখনো কিন্তু পৃথিবীর কোনো না কোনো প্রান্তে বিশাল বিশাল শিল্প কারখানা পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে নিরন্তর যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। একসময় শিল্প কারখানা মানেই ছিল কালো ধোঁয়া আর বিষাক্ত বর্জ্যের ভয়াবহ উৎস। কিন্তু এখন পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে, শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের দূষণের মাত্রা কমাতে বাধ্য হচ্ছে, এবং অনেক ক্ষেত্রে স্বপ্রণোদিত হয়েও কাজ করছে। আমি বিভিন্ন গবেষণাপত্র পড়তে গিয়ে দেখেছি যে, অনেক বড় বড় টেক্সটাইল কারখানা তাদের বর্জ্য জল পরিশোধনের জন্য অত্যাধুনিক ETP (Effluent Treatment Plant) ব্যবহার করছে। শুধু তাই নয়, নির্গত ধোঁয়া থেকে ক্ষতিকারক কণা ও গ্যাস অপসারণের জন্য ক্যাটালিটিক কনভার্টার এবং স্ক্রাবার ব্যবহার করা হচ্ছে। এই পরিবর্তনগুলি আমাদের পরিবেশের জন্য একটি বিশাল স্বস্তির নিঃশ্বাস।
প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং সরকারের ভূমিকা
শিল্প কারখানায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য এখন নানা ধরনের উদ্ভাবনী পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে। যেমন, ফ্লো গ্যাস ডিসালফারাইজেশন (FGD) সিস্টেম ব্যবহার করে কয়লা চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সালফার ডাই অক্সাইড নির্গমন কমানো হচ্ছে। এছাড়াও, সিলেক্টিভ ক্যাটালিটিক রিডাকশন (SCR) সিস্টেম ব্যবহার করে নাইট্রোজেন অক্সাইডের মতো ক্ষতিকারক গ্যাসগুলি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আমি মনে করি, এই প্রযুক্তিগুলি শুধু দূষণ কমাচ্ছে না, বরং সবুজ শিল্প বিপ্লবের পথও দেখাচ্ছে। সরকার এবং পরিবেশ অধিদপ্তরও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কঠোর পরিবেশ আইন প্রণয়ন এবং তা সঠিকভাবে প্রয়োগ করার মাধ্যমে তারা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্য করছে যেন তারা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষা হচ্ছে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সুনামও বাড়ছে। আমার মতে, এটি একটি উইন-উইন পরিস্থিতি।
ভবিষ্যতের জন্য এক পা: স্মার্ট সিটি ও বাতাসের মান নিয়ন্ত্রণ
স্মার্ট প্রযুক্তির ছোঁয়ায় পরিষ্কার বাতাস
আমরা সবাই এখন স্মার্টফোন, স্মার্ট হোম নিয়ে কথা বলি, কিন্তু স্মার্ট সিটির কথা কি ভেবেছি? যেখানে প্রযুক্তির সাহায্যে শহরের বাতাসের মান নিয়ন্ত্রণ করা হবে!
আমার মনে হয়, এটাই আমাদের ভবিষ্যতের পথ। স্মার্ট সিটিগুলোতে এখন অত্যাধুনিক এয়ার কোয়ালিটি সেন্সর বসানো হচ্ছে, যা রিয়েল-টাইমে বাতাসের গুণগত মান পরিমাপ করে। এই সেন্সরগুলি ধূলিকণা, কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড সহ বিভিন্ন দূষণের মাত্রা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। আমি কিছুদিন আগে একটি ডকুমেন্টারিতে দেখেছিলাম, সিউলের মতো শহরে কীভাবে হাজার হাজার সেন্সর বসিয়ে পুরো শহরের বাতাসের মান ম্যাপ করা হচ্ছে। এই ডেটা ব্যবহার করে কর্তৃপক্ষ জানতে পারে কখন এবং কোথায় দূষণ বেশি হচ্ছে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে। যেমন, প্রয়োজনে ট্র্যাফিক রুট পরিবর্তন করা বা নির্দিষ্ট এলাকায় গাড়ির প্রবেশ সীমিত করা।
ডেটাভিত্তিক সিদ্ধান্ত এবং কার্যকর সমাধান
এই ডেটাগুলো কেবল তথ্য নয়, এগুলো কার্যকর সমাধানের ভিত্তি। যখন আমরা জানি কোন এলাকায় দূষণ বেশি, তখন সেই এলাকার জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করা সম্ভব হয়। যেমন, সেই এলাকায় আরও গাছ লাগানো, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট উন্নত করা, বা দূষণ সৃষ্টিকারী উৎসগুলি চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। আমি বিশ্বাস করি, প্রযুক্তির এই ব্যবহার আমাদের শুধু বর্তমানের সমস্যাগুলো চিনতে সাহায্য করছে না, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি পরিষ্কার বাতাসের শহর গড়তে সাহায্য করছে। কল্পনা করুন, এমন একটি শহর যেখানে আপনি আপনার স্মার্টফোন অ্যাপেই জানতে পারবেন কোন এলাকার বাতাস আজ সবচেয়ে পরিষ্কার এবং সেই অনুযায়ী আপনার হাঁটার রুট বা বাচ্চাদের খেলার জায়গা বেছে নিতে পারবেন। এই ধরনের পরিবর্তনগুলি আমাদের জীবনযাত্রার মানকে সত্যিই অনেক উন্নত করবে।
টেকসই ভবিষ্যতের দিকে আশার আলো: আমাদের ব্যক্তিগত দায়িত্ব
ছোট্ট অভ্যাস, বিশাল পরিবর্তন
আমরা প্রায়ই ভাবি, এই বিশাল পরিবেশ দূষণ কমানোর দায়িত্ব শুধু সরকার বা বড় বড় প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের প্রত্যেকের ছোট ছোট অভ্যাসও বিশাল পরিবর্তন আনতে পারে। যেমন, অপ্রয়োজনে গাড়ি ব্যবহার না করে হেঁটে চলা বা সাইকেল চালানো, গণপরিবহন ব্যবহার করা, অথবা আপনার বাসার আশেপাশে একটি গাছ লাগানো। আমি নিজে যখন থেকে এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো অনুসরণ করতে শুরু করেছি, তখন থেকেই মনে এক ধরনের শান্তি পাই। মনে হয় যেন আমি আমার ছোট্ট ভূমিকা পালন করছি এই বিশাল পৃথিবীতে। রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা, প্রাকৃতিক পরিষ্কারক ব্যবহার করা, এবং কম জ্বালানি ব্যবহার করে রান্না করার মতো অভ্যাসগুলো ঘরের ভেতরের বাতাসকেও পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রার দিকে এক পা

পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রা মানেই যে অনেক বড় ত্যাগ স্বীকার করা, তা কিন্তু নয়। এটি বরং সচেতনভাবে কিছু সহজ সিদ্ধান্ত নেওয়া। যেমন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা, সৌরশক্তির মতো নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা, এবং অবশ্যই, বর্জ্য কমানো ও রিসাইক্লিং করা। আমি দেখেছি, যখন আমি নিজে এই কাজগুলো করি, তখন আমার পরিবারের অন্য সদস্যরাও উৎসাহিত হয়। আমরা এখন একসঙ্গে গাছ লাগাই, পুরনো জিনিস ফেলে না দিয়ে নতুন করে ব্যবহার করার চেষ্টা করি। এই যে সম্মিলিত প্রচেষ্টা, এটাই তো আমাদের ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো। মনে রাখবেন, সমুদ্র তৈরি হয় ছোট ছোট ফোঁটা জল দিয়ে। ঠিক তেমনই, আমাদের প্রত্যেকের ছোট্ট প্রচেষ্টা একত্রিত হয়েই একটি পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর পৃথিবী গড়ে তুলতে পারে।
| বায়ু পরিশোধক প্রযুক্তি | কার্যপ্রণালী | সুবিধা | সীমাবদ্ধতা |
|---|---|---|---|
| HEPA ফিল্টার | ধূলিকণা, পরাগরেণু, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের মতো ক্ষুদ্র কণা আটকায়। | অত্যন্ত কার্যকর, অ্যালার্জি ও অ্যাজমা রোগীদের জন্য উপকারী। | ফিল্টার পরিবর্তন দরকার, বায়ুপ্রবাহ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হতে পারে, গ্যাস বা গন্ধ দূর করতে পারে না। |
| অ্যাক্টিভেটেড কার্বন | গন্ধ, গ্যাস, এবং ভোলাটাইল অর্গানিক কম্পাউন্ডস (VOCs) শোষণ করে। | রান্নার গন্ধ, ধোঁয়া, রাসায়নিক গন্ধ দূর করতে কার্যকর। | কণা দূর করতে পারে না, ঘন ঘন কার্বন ফিল্টার পরিবর্তন করতে হয়। |
| আয়নাইজার | নেগেটিভ আয়ন তৈরি করে যা বাতাসে ভাসমান কণাগুলিকে আকর্ষণ করে এবং ভারী করে তোলে, ফলে কণাগুলি নিচে পড়ে যায়। | তুলনামূলকভাবে কম রক্ষণাবেক্ষণ, নীরব অপারেশন। | কিছু মডেলে ওজোন উৎপন্ন হতে পারে যা শ্বাসযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর, সব কণা কার্যকরভাবে অপসারণ করে না। |
| UV-C লাইট | আল্ট্রাভায়োলেট আলো ব্যবহার করে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া এবং ছাঁচের স্পোর ধ্বংস করে। | মাইক্রো-জীবানু দূরীকরণে কার্যকর। | কণা বা গ্যাস দূর করতে পারে না, সরাসরি UV-C আলো ক্ষতিকর হতে পারে। |
글을마치며
বন্ধুরা, আজ আমরা দেখলাম কীভাবে পরিবেশবান্ধব অনুঘটক আর অত্যাধুনিক বায়ু পরিশোধক প্রযুক্তি আমাদের চারপাশের বাতাসকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করছে। এই প্রযুক্তিগুলো শুধু দূষণ কমাতেই নয়, বরং আমাদের সুস্থ জীবনযাপনের জন্যও কতটা জরুরি তা বুঝতে পারলাম। আমার মনে হয়, এই আলোচনা আমাদের মনে এক নতুন আশার আলো জ্বেলেছে। আসুন, আমরা সবাই মিলে এই প্রচেষ্টার অংশ হই এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি পরিষ্কার পৃথিবী উপহার দিই।
알াডুমে সোলমো ইনোমাশিয়োন
১. আপনার ঘরের ভেতরের বাতাসের গুণমান যাচাই করতে পোর্টেবল এয়ার কোয়ালিটি মনিটর ব্যবহার করতে পারেন। এতে সহজেই জানতে পারবেন আপনার ঘরে কখন বায়ু পরিশোধক চালানো দরকার।
২. গাড়ির অনুঘটক কনভার্টার নিয়মিত পরীক্ষা করান। এটি ঠিকমতো কাজ না করলে গাড়ির দূষণ অনেক বেড়ে যায়, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
৩. বাড়িতে গাছপালা লাগানো ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখতে দারুণ সাহায্য করে। বিশেষ করে স্নেক প্ল্যান্ট, অ্যালোভেরা, মানি প্ল্যান্টের মতো গাছগুলো বাতাসের বিষাক্ত পদার্থ শোষণ করে নেয়।
৪. বায়ু পরিশোধক কেনার সময় HEPA এবং অ্যাক্টিভেটেড কার্বন ফিল্টার আছে এমন মডেল বেছে নিন। এটি কণা এবং গন্ধ উভয়ই দূর করতে পারে, যা আপনার জন্য সেরা হবে।
৫. বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করুন এবং যখন ঘর থেকে বের হবেন তখন অপ্রয়োজনে লাইট, ফ্যান বা এসি বন্ধ করে রাখুন। ছোট এই অভ্যাসগুলো সামগ্রিকভাবে কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমাতে সাহায্য করে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় 정리
আজকের আলোচনা থেকে আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানতে পারলাম। প্রথমত, পরিবেশবান্ধব অনুঘটক এবং বায়ু পরিশোধক প্রযুক্তি আধুনিক বিশ্বে দূষণ নিয়ন্ত্রণের অপরিহার্য হাতিয়ার। দ্বিতীয়ত, শিল্প কারখানায় দূষণ কমাতে প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমাগত বাড়ছে, যা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। তৃতীয়ত, স্মার্ট সিটিগুলোতে বাতাসের মান নিয়ন্ত্রণে ডেটাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কার্যকর সমাধান বের করা হচ্ছে। সবশেষে, আমাদের ব্যক্তিগত দায়িত্ব ভুলে গেলে চলবে না। ছোট ছোট অভ্যাস পরিবর্তন করে আমরাও একটি পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর পৃথিবী গড়ার আন্দোলনে শরিক হতে পারি। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖
প্র: আরে ভাই ও বোনেরা, এই যে আমরা পরিবেশবান্ধব অনুঘটক বা ‘গ্রিন ক্যাটালিস্ট’ নিয়ে এত কথা বলছি, আসলে এগুলো কী আর কীভাবে আমাদের পরিবেশকে রক্ষা করতে সাহায্য করছে, একটু সহজভাবে যদি বুঝিয়ে বলতেন?
উ: বন্ধুরা, একদম ঠিক প্রশ্ন করেছেন! আমাদের চারপাশে যে দূষণ বাড়ছে, সেটা কমানোর জন্য বিজ্ঞানীরা দিনরাত এক করে কাজ করছেন। আর এই ‘পরিবেশবান্ধব অনুঘটক’ বা ‘গ্রিন ক্যাটালিস্ট’ হলো সেই গবেষণার এক অসাধারণ ফল। সহজভাবে বললে, অনুঘটক হলো এমন কিছু পদার্থ যা রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু নিজে সেই বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না বা খরচ হয় না। যেমন ধরুন, আপনি এক কাপ চা বানাতে চাচ্ছেন, চিনি দিলে চা মিষ্টি হবে। এখানে চিনি হলো উপাদান। কিন্তু যদি এমন কিছু দেন যা চা বানানোর প্রক্রিয়াটাকে দ্রুত করে, অথচ চায়ের সঙ্গে মিশে যায় না – সেটাই অনুঘটক। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বহু রাসায়নিক প্রক্রিয়া চলে, কলকারখানায় নানা কিছু তৈরি হয়। সেসব জায়গায় ক্ষতিকর বর্জ্য তৈরি হওয়া কমাতে বা বর্জ্যকে কম ক্ষতিকর উপাদানে ভাঙতে এই অনুঘটকগুলো জাদুর মতো কাজ করে।আমি নিজে যখন প্রথম এই বিষয়টা নিয়ে জানতে শুরু করি, তখন ভেবেছিলাম, এটা কি খুব জটিল কিছু হবে?
কিন্তু যত জেনেছি, ততই মুগ্ধ হয়েছি। বিশেষ করে ‘জৈব অনুঘটক’ (Organocatalyst) বলে একটা ব্যাপার আছে, যেটা ছোট ছোট জৈব যৌগ দিয়ে তৈরি হয় এবং পরিবেশের জন্য খুব নিরাপদ। এই অনুঘটকগুলো ক্ষতিকারক রাসায়নিকের ব্যবহার কমিয়ে দেয়, শক্তি সাশ্রয় করে এবং বর্জ্য উৎপাদনও কমিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, বাতাস বা জলকে পরিশুদ্ধ করতেও এরা দারুণ কার্যকর। যেমন, কার্বন পরিশোধক প্ল্যান্টগুলো গাছের থেকেও অনেক বেশি কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করতে পারে। একটি যন্ত্র বছরে ৫০০-৯০০ টন কার্বন ডাই অক্সাইড বের করে নিতে পারে, যেখানে একটি গাছ মাত্র ৫০ কিলোগ্রাম কার্বন শোষণ করে!
তাই বুঝতেই পারছেন, দূষণ কমানোর জন্য এটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ একটা পদক্ষেপ। আমার মনে হয়, এই প্রযুক্তিগুলো আরও সহজলভ্য হলে আমাদের চারপাশের বাতাসটা আরও ফ্রেশ হবে।
প্র: আজকাল তো দেখছি ঘরে ঘরে এয়ার পিউরিফায়ার কেনার ধুম পড়েছে। এই যে আধুনিক বায়ু পরিশোধক প্রযুক্তিগুলো আসছে, এগুলো কি সত্যিই আমাদের জন্য কাজ করে? আর কোন প্রযুক্তির এয়ার পিউরিফায়ার কিনলে ভালো হয়?
উ: সত্যি কথা বলতে কি, হ্যাঁ, এয়ার পিউরিফায়ার আসলেই কাজ করে, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে যেখানে বায়ু দূষণ এখন একটা বড় সমস্যা। ঢাকার মতো শহরে, যেখানে বাতাসের মান প্রায়শই ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে থাকে, সেখানে ঘরের ভেতরের বাতাসকে সুরক্ষিত রাখতে এয়ার পিউরিফায়ারের কোনো বিকল্প নেই। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যখন প্রথম একটা ভালো এয়ার পিউরিফায়ার বাড়িতে আনি, তখন শ্বাস-প্রশ্বাসের একটা স্বস্তি অনুভব করেছিলাম, যেটা আগে কখনো পাইনি। বিশেষ করে যাদের অ্যালার্জি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে, তাদের জন্য এটা আশীর্বাদের মতো।এখন প্রশ্ন হলো, কোন প্রযুক্তির এয়ার পিউরিফায়ার সবচেয়ে ভালো?
বাজারে অনেক ধরনের প্রযুক্তি আছে, যেমন HEPA ফিল্টার, অ্যাক্টিভেটেড কার্বন, UV, ওজোন জেনারেটর, নেগেটিভ আয়ন ইত্যাদি। আমার মতে, সবচেয়ে কার্যকর এবং নিরাপদ হলো HEPA ফিল্টার এবং অ্যাক্টিভেটেড কার্বন ফিল্টার-এর সমন্বয়ে গঠিত এয়ার পিউরিফায়ার। HEPA ফিল্টার বাতাসে ভাসমান ধুলো, পরাগরেণু, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং ০.৩ মাইক্রনের চেয়ে বড় কণাগুলোকে খুব দক্ষতার সাথে আটকে দেয়। অন্যদিকে, অ্যাক্টিভেটেড কার্বন ফিল্টার বাতাসে থাকা দুর্গন্ধ, ক্ষতিকারক গ্যাস আর রাসায়নিক পদার্থ শোষণ করে নেয়।তবে, UV বা ওজোন জেনারেটরযুক্ত এয়ার পিউরিফায়ার থেকে একটু সাবধানে থাকবেন। UV রশ্মি মানুষের ত্বক বা চোখের ক্ষতি করতে পারে, আর ওজোন গ্যাস অতিরিক্ত পরিমাণে স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর, এমনকি স্নায়ুর সমস্যাও করতে পারে। আমি নিজে দেখেছি, অনেকেই না বুঝে এই ধরনের পিউরিফায়ার কিনে বিপদে পড়েন। তাই কেনার আগে অবশ্যই ফিল্টারের ধরন আর প্রযুক্তির কার্যকারিতা ভালোভাবে জেনে নেবেন। আমি সবসময় বলি, স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো আপস নয়!
প্র: এয়ার পিউরিফায়ার কেনার সময় কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি খেয়াল রাখা উচিত যাতে আমার টাকাটা সঠিক জায়গায় ব্যয় হয় এবং ভালো ফল পাই?
উ: বাহ, এটা তো খুবই বাস্তবসম্মত একটা প্রশ্ন! আজকাল এয়ার পিউরিফায়ার একটা প্রয়োজনীয় জিনিস হয়ে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু ভুলভাল জিনিস কিনে টাকা নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। আমি যখন আমার প্রথম এয়ার পিউরিফায়ার কিনতে গিয়েছিলাম, তখন অনেক দ্বিধায় ছিলাম, কোনটা কিনলে ভালো হবে। কিন্তু কিছু বিষয় মাথায় রাখলে আপনি একদম সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।প্রথমত, আপনার ঘরের আকার অনুযায়ী পিউরিফায়ার কিনুন। বড় ঘরের জন্য বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মডেল লাগবে। ঘরের বাতাস এক ঘণ্টায় কতবার পরিষ্কার করতে পারবে, সেটার রেটিং (ACH) দেখে নেবেন। ৫-৬ ACH রেটিং থাকলে ভালো। দ্বিতীয়ত, CADR (Clean Air Delivery Rate) রেটিংটা খুব জরুরি। এটা যত বেশি হবে, পিউরিফায়ার তত দ্রুত বাতাস পরিষ্কার করতে পারবে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা বলে, এটা দেখে কিনলে সত্যিই দ্রুত ঘরের বাতাস ফ্রেশ হয়।তৃতীয়ত, ফিল্টারের মান। যেমনটা আগেই বলেছি, HEPA এবং অ্যাক্টিভেটেড কার্বন ফিল্টার মাস্ট। মনে রাখবেন, ফিল্টারগুলো নিয়মিত পরিবর্তন করতে হয়, তাই ভবিষ্যতে এর খরচ কেমন হতে পারে, সেটাও হিসেব করে নেবেন। আমি দেখেছি, অনেকে ফিল্টার পরিবর্তনের খরচ না জেনে কিনে পরে বিপদে পড়েন। চতুর্থত, শব্দের মাত্রা (Decibel)। বিশেষ করে বেডরুমের জন্য কিনলে ৪৫-৫০ ডেসিবেলের বেশি শব্দ হলে ঘুমের সমস্যা হতে পারে। আমার পিউরিফায়ারটা রাতে এত শান্ত থাকে যে মনেই হয় না চলছে। পঞ্চমত, বিল্ট-ইন AQI মনিটর থাকলে খুব ভালো হয়। এতে আপনি রিয়েল-টাইমে বাতাসের গুণগত মান দেখতে পারবেন। সবশেষে, অবশ্যই ওয়ারেন্টি এবং আফটার-সেলস সার্ভিস কেমন, তা জেনে নেবেন। এই ছোট ছোট টিপসগুলো মেনে চললে আপনি যেমন সঠিক পণ্যটি কিনতে পারবেন, তেমনি আপনার টাকাও বাঁচবে আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আপনি পাবেন নির্মল ও স্বাস্থ্যকর বাতাস!






